সংগঠনটির মতে, কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দেয়ার মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তৈরি পোশাক শিল্পের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ ঋণসুদ এবং কিছু করনীতির বিষয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল এক বিবৃতিতে এমন বাজেট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। ফেরত প্রাপ্তিটা চেক অথবা ইনস্ট্রুমেন্টাল ফর্মে হতে পারে, যা প্রয়োজনে অন্যান্য সরকারি পাওনার সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে। বিষয়টি আরো স্পষ্টীকরণ করা প্রয়োজন।
রফতানিমুখী নন বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ দেয়াকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে সংগঠনটি। তারা বলেছে, রফতানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন-পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক। এ ধরনের নীতিগত ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
বিবৃতিতে করের বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ট্যাক্স কতটুকু সময়োপযোগী বা বাস্তবসম্মত, তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দেশের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান যা উৎপাদন করে, তা এ মুহূর্তে দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম। দেশীয় উৎপাদনকে সেফগার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আমরাও একমত, কিন্তু পাশাপাশি ভাবতে হবে সেটা করতে গিয়ে প্রতিযোগী সক্ষমতা হারিয়ে বাজার হাতছাড়া হয় কিনা।’
অন্যদিকে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বাজেটে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই বলে মনে করছে সংগঠনটি। এছাড়া সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্চ ঋণসুদও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৩-১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সামগ্রিকভাবে বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সহজ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এসব উদ্যোগ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্প পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’